আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশজুড়ে ৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছে এসআরবি ফোর্সেস। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ৫০০ পিকআপ পেট্রোল টিম ও ৪৫০টি মোটরসাইকেল মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি ড্রোন নজরদারি, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাহিনীটির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, দেশজুড়ে ৩২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসআরবির ১৫টি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
মহাপরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতার কোনো হুমকি পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডগ স্কোয়াড, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও বিশেষ কমান্ডো দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও সংবেদনশীল এলাকায় নিয়মিত সুইপিং পরিচালনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনলাইন বা অফলাইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিজয়াদশমীতে প্রতিমা পরিবহন ও বিসর্জনের নির্ধারিত রুটে বিশেষ টহল থাকবে। বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বাহিনীর সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কোনো একক বাহিনীর পক্ষে সম্ভব নয়। পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন ও সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে।
মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক কোনো এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে না এবং তারা কোনো হুমকি অনুভব করছেন না। মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু পূজার নিরাপত্তা নয়, এলাকার সব মানুষের স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য পূরণে পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে এসআরবি ফোর্সেস। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে নিকটস্থ ক্যাম্প বা কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


