চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাসে আর না ফেরার শর্তে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তিনি পুনরায় ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর করার জোর হুঁশিয়ারি দিয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে চলমান শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে তাদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার প্রায় ৩০ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়লে মানবিক বিবেচনায় তাকে চিকিৎসার সুযোগ দিতেই নিরাপদে বের হতে দেওয়া হয়েছিল, তবে তা কোনো সমঝোতার অংশ ছিল না।
চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম জনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আর ফিরবেন না–এই শর্তেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে উপাচার্যকে যেতে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই শর্ত উপেক্ষা করে ফিরে আসার চেষ্টা করা হলে তার দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো যাবে না। সায়েম স্যারের পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে, উপাচার্য শরীফুল আলম বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেছেন, পদত্যাগ কিংবা ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে আছেন উল্লেখ করে সুস্থ হয়ে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ঘোষণা দেন তিনি।
উপাচার্যের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সময়ে গণমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না। ক্যাম্পাসে তার ফিরে আসার চেষ্টা নতুন করে সংকট ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি হিসেবে মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত শাটডাউন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সংকট সমাধানে কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের মানবিক আচরণকে দুর্বলতা কিংবা নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগকে আন্দোলনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।


