বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনে সেগুলো সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
সংখ্যালঘুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলা সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার বলেন, মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, বঞ্চনা ও অসুবিধার কথা তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা সমাধানে তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। জামায়াত আমির তাদের সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং দায়িত্ব পালনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নেতারাও ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। সভায় উপস্থিত হিন্দু নেতারা এ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।
এদিকে, মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোয় তারা জামায়াত আমিরকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ও উদ্যোগে তারা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করেন।
তবে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা মসজিদের খুতবায়ও সম্প্রীতির আহ্বান জানালে দেশে প্রকৃত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা আরও সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।


