সবুজ পৃথিবীর লক্ষ্যে এইচএজিই ফাউন্ডেশন’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সবুজ পৃথিবীর লক্ষ্যে এইচএজিই ফাউন্ডেশন’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ছবি: এইচএজিই ফাউন্ডেশনের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

পরিবেশ সুরক্ষা, সবুজায়ন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে হিউম্যানিটারিয়ান অ্যালায়েন্স ফর গ্রিন আর্থ (এইচএজিই) ফাউন্ডেশন।

‘একটি বৃক্ষ, একটি স্বপ্ন, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এইচএজিই ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি ও আন্তর্জাতিক কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. সোহেল রানা, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম রিপন ও কার্যনির্বাহী সদস্য রাসেল মিয়া ও আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমির উপপরিচালক ( প্রশাসন) মো. ওয়ালেদুর রহমান খান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য ময়মুর মুরসালিন নোমানী, মাহবুবা সুলতানা, সালমা হাসান, মো. জহুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার ও রাশেদ আনছারী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃক্ষরোপণ কেবল গাছ লাগানোর একটি কর্মসূচি নয়, বরং প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একটি গাছ বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ওপর তার ইতিবাচক প্রভাবও বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন

গাছ অক্সিজেন সরবরাহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে গাছপালা মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

এইচএজিই ফাউন্ডেশন-এর এ কর্মসূচির প্রতিপাদ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান সময়ে পরিবেশ রক্ষার আলোচনা শুধু বিশেষজ্ঞ বা পরিবেশবাদীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বনভূমির ওপর চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ এখন ব্যক্তি, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।

একটি গাছের উপকারিতা শুধু ছায়া দেওয়া কিংবা সৌন্দর্য বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গাছপালা পাখি ও বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল তৈরি করে। শহরাঞ্চলে গাছ তাপমাত্রার প্রভাব কমাতে এবং ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। গ্রামীণ জনপদে গাছ মাটি ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত সবুজায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল কিংবা উপযুক্ত উন্মুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজায়নের পরিসর বাড়ানো যায়।

আন্তর্জাতিক কথাসাহিত্যিক রাজুয়ান আহমেদের নেতৃত্বে এইচএজিই ফাউন্ডেশন-এর এ আয়োজনের মূল বার্তা হলো, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে হলে বর্তমান প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়।

‘একটি বৃক্ষ, একটি স্বপ্ন, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী’ প্রতিপাদ্যটি তাই শুধু একটি কর্মসূচির নাম নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান। বর্তমানের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাই পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে বৃক্ষরোপণ, গাছের যথাযথ পরিচর্যা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার বিকল্প নেই।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad