আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং সাসেক প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
বুধবার সেতু ভবনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান ২০৫০ নিয়ে পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালায় সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক ও সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এ নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান মাস্টার প্ল্যান হালনাগাদ, উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প নির্বাচন এবং সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় কর্মশালায়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতু সচিব বলেন, নতুন সরকারের উন্নয়ন-অভিপ্রায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, মেধা, মনন ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে, যাতে গৃহীত প্রকল্পগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প (পদ্মা, যমুনা) সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তবে কিছু প্রকল্প (কর্ণফুলি টানেল) বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে,’ বলেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথি উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন ও বিদ্যমান তহবিলের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া ঢাকায় এলিভেটেড ইনার সার্কুলার রোড (ইস্ট-ওয়েস্ট) প্রকল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটির সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনার নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেধা, দক্ষতা ও শ্রমকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে হাওর অঞ্চলে একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাইয়ে সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশনা দেন। এ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান মাস্টার প্ল্যান হালনাগাদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিছবির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং বিভিন্ন সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে হবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক আলতাফ হোসেন সেখ সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের জন্য এবং বিদ্যমান মাস্টার প্ল্যান হালনাগাদের লক্ষ্যে পৃথক টিম গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় প্রধান প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যমান মাস্টার প্ল্যান হালনাগাদ করার উদ্যোগ গ্রহণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনাটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় গৃহীত আলোচনা ও নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদকরণ, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধান এবং সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


