চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পরও আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এরই মধ্যে দুই দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব দিয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আরাফাত রহমানকে। আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্যের ক্যাম্পাসে যেতে না পারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার মধ্যে নতুন করে রুটিন দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় যোগ দিতে ১০ অক্টোবর বিকালে ঢাকায় যাচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ১১ ও ১২ অক্টোবর ওই সভায় অংশ নেবেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর কর্মস্থলে ফেরার আগপর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। গত ৯ অক্টোবর ই-মেইল বার্তায় অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব অর্পণ করেন উপাচার্য।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, উপাচার্যের পদ শূন্য হলে কিংবা ছুটি, অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণ করা পর্যন্ত অথবা আগের উপাচার্য দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত উপ-উপাচার্য দায়িত্ব পালন করবেন, যদি আচার্য ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দেন।
উপ-উপাচার্য না থাকলে বা অনুপস্থিত থাকলে ট্রেজারার অথবা জ্যেষ্ঠতম ডিন দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এবার কোনো অনুষদের ডিনকে দায়িত্ব না দিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘যেকোনো একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দিলেই চলে। ডিনদেরকেই দিতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।’
অধ্যাপক মো. আরাফাত রহমান বলেন, ‘রুটিন দায়িত্ব আমি যেখানে থাকব, সেখানেই। এটা যে উপাচার্য ভবনে যেতে হবে, এমন কোনো বিষয় না। দৈনন্দিন দায়িত্বের সঙ্গে যদি ভিসি মহোদয়ের কোনো কাজ থাকে, সেটা দেখব।’
এদিকে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে চুয়েটের অচলাবস্থা গড়িয়েছে ১৮তম দিনে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করলেও এখনো ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য পদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন থেকেই ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। উপাচার্য দপ্তরের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান তিনি।


