একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের চার আসামির জামিন আবেদন নাকচ করেছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তাদের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
চার আসামি হলেন খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ, মো. ফখরুজ্জামান, মো. আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রাব্বানী। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তারা খালাস চেয়েছেন।
বুধবার আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আবেদন নাকচ করেন।
আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘চার আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে মামলাটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছে চেম্বার আদালত।’
তিনি বলেন, ‘একই রায়ের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক আপিল করা হয়েছে। এসব আপিলে খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ, মো. ফখরুজ্জামান, মো. আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রাব্বানীর খালাস চাওয়া হয়েছে।’
খালাসের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শাহজাহান বলেন, ‘মামলায় প্রসিকিউশনের একমাত্র সাক্ষী ছিলেন একজন ব্যক্তি, যিনি সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নাবালক ছিলেন। আপিলে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনানিতে আমাদের প্রধান আবেদন ছিল জামিন। তবে আদালত জামিন না দিয়ে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।’
এর আগে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ময়মনসিংহের পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।
দণ্ডিত পাঁচ আসামি হলেন মো. হরমুজ আলী, মো. আব্দুস সাত্তার, খন্দকার গোলাম রাব্বানী, গোলাম সাব্বির আহমেদ ও মো. ফখরুজ্জামান।
ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, রেজিয়া সুলতানা চমন ও তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।


