সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ার মধ্যেই এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আভা বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটির একটি মঙ্গলবার এবং অন্যটি বুধবার ঘটেছে। তবে কোন বিমানবন্দরে কোন দিন হামলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির সই কড়া বিবৃতিতে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তারা জানায়, জানিয়েছেন, একাধিক চালকবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করে এসব হামলা হয়েছে।
হামলাগুলোর পেছনে হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও। প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাগুলোতে জড়িতরা ‘শাস্তি ছাড়া’ পার পাবে না।
বুধবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, ইয়েমেনের সাদা, হোদেইদা, জাওফ ও মারিব প্রদেশে হুতিদের ৮০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। একইদিন ইয়েমেনের বিভিন্ন বিমান চলাচল স্থাপনাও একের পর এক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
একই দিন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের উত্তরে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানার ওপর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনাটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সেটিও ধ্বংস করা হবে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জোটটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দিনের শুরুতে হুতিরা এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবোঝাই চালকবিহীন উড়োজাহাজ দিয়ে হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে আসা একটি উড়োজাহাজের অবতরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে এসে পড়ে।
হুতিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই বিদেশে যাতায়াতের প্রধান প্রবেশদ্বার।
গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।
চলতি সপ্তাহে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তা নিয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে।
সেপ্টেম্বরে হুতিদের দখলে যাওয়া বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছের কৌশলগত অঞ্চল এবং মোখা শহরের আশপাশের এলাকা পুনরুদ্ধার করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, সৌদির সঙ্গে নতুন করে হুথিদের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ফের গৃহযুদ্ধের শঙ্কায় ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘মানুষ জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছে, কিন্তু নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না।’ সেইসঙ্গে খাবার ও আশ্রয়ের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মানবিক সহায়তার জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


