ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জ্ঞানেশ কুমার, পদত্যাগ করুন এবং এসআইআর বাতিল করুনসহ নানা স্লোগান দেন।
জার্মানি থেকে এই বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ এতে সরাসরি অংশ নেন।
সিজেপির ব্যানারে ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ নামে আয়োজিত এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল–এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ তুলে ধরা।
এদিন সকাল থেকে হাজারো মানুষ ফ্রিডম পার্কে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১টার দিকে সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারা মঞ্চে পৌঁছান। ধ্রুব রাঠি ও প্রকাশ রাজ তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে অবস্থান নিয়ে বিতর্কিত এসআইআর ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করলে পুরো এলাকা ভোট চোর, ভোট চোর স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।
সমাবেশে উপস্থিত জনতা ও আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ বলেন, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুরো দেশকে চরম অপমান করেছে। আগে এই দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিত তারা কাদের নির্বাচিত করে সরকারে বসাবে। কিন্তু এই বৈষম্যমূলক এসআইআরের মাধ্যমে এখন শাসক সরকারই ঠিক করে দিচ্ছে কারা ভোট দেওয়ার অধিকার পাবে আর কারা পাবে না।’
এসআইআর সরাসরি বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রকাশ রাজ আরও যুক্ত করেন, ‘আমাদের এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো নয়; মূল দাবি হলো বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়াটিই চিরতরে বাতিল করা। কারণ জ্ঞানেশ সরে গেলেও তার জায়গায় অন্য কেউ এসে একই নীতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।’
অন্যদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠি এই আন্দোলনকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নেই। তাদের অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আমি কোনো সরকার পরিবর্তনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এখানে আসিনি; এসেছি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার তাগিদে।’
বেঙ্গালুরুর এই সমাবেশের আগে গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়েও একই ইস্যুতে বিশাল আন্দোলনের আয়োজন করেছিল সিজেপি। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী, তরুণ ও বিপুলসংখ্যক নারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন।


