সনদ নয়, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে: রাশেদ আল মাহমুদ

সনদ নয়, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে: রাশেদ আল মাহমুদ
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি দেওয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শুধু সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করলেও যদি তার শিক্ষার মান সপ্তম শ্রেণির পর্যায়ে থাকে, তাহলে সেই শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। কৃতি শিক্ষার্থীরা এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আয়োজনে এসএসসি-এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, ‘দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়েছেন, কিন্তু তার মান সপ্তম শ্রেণির পর্যায়ে–শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনে এই পার্থক্য দূর করতে হবে।’

কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি নিজেদের অর্জিত শিক্ষার মান নিয়ে সচেতন হন এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করেন, তাহলে সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গণিত শিক্ষায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় নিম্নমুখী প্রবণতা উদ্বেগজনক। কৃতি শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে পারেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘গণিত যদি না থাকে, তাহলে পদার্থবিদ্যা কাজ করবে না। পদার্থবিদ্যা যদি কাজ না করে, কোনো প্রকৌশলবিদ্যাই কাজ করবে না।’ তাই মৌলিক শিক্ষা শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু একটি সনদ অর্জন বা চাকরির জন্য প্রস্তুত হওয়া নয়। শিক্ষার মাধ্যমে নাগরিকত্ববোধ তৈরি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকদের কাজ শুধু বিদ্যমান জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া নয়; গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান তৈরি করাও তাদের দায়িত্ব। কৃতি শিক্ষার্থীদেরও গবেষণা ও নতুন চিন্তার মাধ্যমে দেশের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে বড় হওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন বড় হবে, আজকে যে বাবা-মা তোমাদের পাশে আছে, সেই বাবা-মা যেন বৃদ্ধাশ্রমে না যায়।’

সন্তানদের দেশকে ভালোবাসতে শেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। দেশে গড়ে ওঠা মেধা যেন দেশের বাইরে গিয়ে অন্য দেশের কাজে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সন্তানদের মধ্যে দেশপ্রেম তৈরি করতে অভিভাবকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে এটিএন নিউজের সাংবাদিক মাহমুদা মনসুরা বলেন, সাংবাদিক বাবা-মায়েরা ব্যস্ততার মধ্যেও সন্তানদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করেন। তবে ভালো ফলের পাশাপাশি সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও জরুরি।

তিনি শিক্ষার্থীদের মা-বাবার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি তাদের সম্মান করা, তাদের কথা শোনা এবং সমাজের আদর্শ ও সত্যানুরাগী মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দূর করতে অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের চিফ বিজনেস অফিসার ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসবিএসি ব্যাংকের নতুন এএমডি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীহ ডিআরইউর সদস্য সাংবাদিক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল করা শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, সনদ ও বৃত্তি দেওয়া হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad