২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর অপর্যাপ্ত সাজার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন চলতি সপ্তাহে আপিল করবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
রোববার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সাজা বাড়াতে এরইমধ্যে আপিলের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে।
৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ রায় দেয় আদালত। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহমুদুল হাসান গত ২০ সেপ্টেম্বর টাইমসকে জানিয়েছিলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতের দেওয়া ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রোববার আসামিপক্ষকে রায়ের সেই কপি সরবরাহ করা হয়েছে।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয় তদন্তের মাধ্যমে। গত বছরের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করলে শুনানি শেষে সেদিনই আদালত অভিযোগ আমলে নেয়। পরে ২ নভেম্বর আটটি অভিযোগ গঠন করা হয়।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী, দুজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষী, একজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং জব্দ তালিকার দুজন সাক্ষী। আসামিপক্ষের পক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ১৪ মে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। পরে ২২ জুন আদালত ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ার নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।


