বাবা-মায়ের সঙ্গে শ্রীপুরে থাকতেন ১৮ বছরের দেলোয়ার হোসেন। শনিবার রাতে আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়।
দেলোয়ার জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের বদু মিয়ার ছেলে। শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সাঁটিয়াবাড়ি গ্রামের খাসপাড়া এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
শনিবার রাতে সাঁটিয়াবাড়ি গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে আগুন লাগে। ঘরের ভেতর থেকে একজনের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা সেখানে ছুটে যান। পরে দগ্ধ অবস্থায় দেলোয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দেলোয়ার কীভাবে ওই ঘরে গিয়েছিলেন, তা জানেন না তার বাবা। বদু মিয়া বলেন, ‘যে ঘরে আগুনে পুড়ে ছেলের মৃত্যু হয়েছে সেখানে কীভাবে গেল বলতে পারব না।’
ছেলের শরীর আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে জানিয়ে বদু মিয়া বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে দাবি আমার ছেলেকে কারা ওখানে নিয়েছে, কেন নিয়েছে, তা তদন্ত করে বের করবে। আর যারা পুড়িয়ে মারছে তাদের যেন বিচার হয়।’
ঘরটির মালিক হুরমত আলী শেখ বলেন, জমি নিয়ে তার চাচাতো ভাই ফাইজুদ্দিনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তিনি একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে জমি পাহারা দিতেন এবং প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে সেখানে ঘুমাতেন।
ঘটনার রাতে তিনি রাজেন্দ্রপুর বাজারে দুধ বিক্রি করছিলেন। তখন একজন ফোন করে তাকে ঘরে আগুন লাগার কথা জানান। তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন, ঘরে আগুন জ্বলছে। ভেতর থেকে একজনের ডাক চিৎকার শুনে পরে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
হুরমত আলী শেখ বলেন, ‘এই ছেলেকে আমি চিনি না। সে কেন এখানে এসেছে। কীভাবে আগুন লেগেছে, আমরা কিছু বলতে পারব না।’ তার ভাষ্য, ঘরে পেট্রল ও কেরোসিনের গন্ধ ছিল। পেট্রল বা কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, কীভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।


