আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। বুধবার এস্তাদিও মনুমেন্টালে তার আবেগঘন বিদায়ের ম্যাচে বেনিনকে ৩–০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান নিকোলাস ওতামেন্দি। আর্জেন্টিনার হয়ে এটি ওতামেন্দিরও শেষ ম্যাচ ছিল।
এর কিছুক্ষণ পর এই ডিফেন্ডারকেও বিদায় জানানো হয়। তাকে তুলে নেওয়ার সময় সতীর্থরা জড়িয়ে ধরেন। গ্যালারির দর্শকেরা উষ্ণ করতালিতে বিদায় জানান তাকে।
৬১ মিনিটে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলেও অবদান রাখেন মেসি। তার পাস পেয়ে বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁকানো দারুণ এক শটে গোল করেন নিকো পাজ। পুরো স্টেডিয়াম যে মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল, সেটি অবশেষে আসে ৭০ মিনিটে।
পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। শট নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। জালের ওপরের কোণে বল পাঠিয়ে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেন তিনি। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ৩–০ গোলে।
আরও গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের পরের দিকে কাছ থেকে একটি সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ৮৯ মিনিটে তার শট পোস্টে লাগে।
তবে আরেকটি গোলের প্রয়োজনও ছিল না। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ রাতটি ততক্ষণে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। শেষ বাঁশির পরও আবেগের রেশ ছিল।
দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ শেষে মেসিকে ঘিরে ধরেন সতীর্থরা। নিজেদের অধিনায়ককে জড়িয়ে ধরেন তারা। বেনিনের খেলোয়াড়েরাও এগিয়ে এসে আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তির সঙ্গে সেলফি তোলেন।
ম্যাচের কর্মকর্তাসহ মাঠে থাকা অন্যরাও যোগ দেন বিদায়ের আয়োজনে। গ্যালারিতে অনেক সমর্থকের চোখে তখন জল।
এরপর উদ্যাপন ছড়িয়ে পড়ে মনুমেন্টালের আকাশে। মেসি ও আর্জেন্টিনার হয়ে তার অসাধারণ ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ ড্রোন প্রদর্শনীতে আলোকিত হয়ে ওঠে রাতের আকাশ।
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় শুরু হয়েছিল রাতটি। ম্যাচের দশম মিনিটে মেসিকে বিশেষভাবে অভিবাদন জানান দর্শকেরা। রাতের শেষেও উদ্যাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেই মেসিই।
এক গোল, দুটি অ্যাসিস্ট ও ৩–০ ব্যবধানের জয়—এভাবেই পর্দা নামল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ারের


