ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে হাজতি আসামি মো. শরিফুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল আবদুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত থেকে পালিয়ে যান শরিফুল।
এর আগেও ২০২৫ সালে আদালত থেকে পালিয়েছিলেন তিনি। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো আদালত থেকে পালানোর ঘটনা ঘটল।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোতোয়ালি থানার মামলায় হাজতি আসামি শরিফুল কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত থেকে পালিয়ে যান। মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকায় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য অন্যমনস্ক থাকার সুযোগে শরিফুল অন্য একটি দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এর আগেও একবার তিনি আদালত থেকে পালিয়েছিলেন।
ডিসি জানান, এ ঘটনায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। সিএমএম আদালতের হাজতের ইনচার্জ এসআই মো. মোরশেদ আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল আবদুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার শরিফুলকে আদালতে হাজির করা হলেও সাক্ষী না আসায় মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল আবদুল আলিম তাকে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কৌশলে হাতকড়া খুলে অন্য একটি দরজা দিয়ে পালিয়ে যান শরিফুল।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে খিলগাঁও থানার কিশোর জিসান হোসেন হত্যা মামলায় শরিফুলকে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে তাকে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে এক পুলিশ সদস্যকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান তিনি।
ওই ঘটনায় সেদিনই হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
শরিফুল দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহম্মেদের ছেলে।


