ইতালি পাঠানোর নামে জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাচার, গ্রেপ্তার ২

ইতালি পাঠানোর নামে জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাচার, গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তার সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। ছবি: পিবিআই
Advertisement
Advertisement

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাচার এবং প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নরসিংদী।

মঙ্গলবার পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুর সদর উপজেলার তিতারকুল এলাকার সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) ও নরসিংদী সদর উপজেলার শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। পিবিআইয়ের দাবি, সুবোধ চক্রটির মূল হোতা এবং শিমুল তার প্রধান সহযোগী।

পিবিআই ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তিকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তি করে চক্রটি। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয়। পরে ২০২৫ সালের ৪ জুন রউফকে ইতালি না পাঠিয়ে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় ভিসা জালিয়াতি ধরা পড়লে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে বিষয়টি আসামিদের জানালে তারা ভুল স্বীকার করে পুনরায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। ইতালি যাওয়ার আশায় রউফ দফায় দফায় তাদের মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা দেন।

আরও পড়ুন

তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ইতালি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে আসামিরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে ভয়ভীতি দেখান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সংস্থাটি তদন্তভার নেয়। উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিন, পিপিএমকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তদন্তকারী দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুর থেকে সুবোধকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর টাউয়াদী এলাকা থেকে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। সংস্থাটির দাবি, জবানবন্দিতে তারা মানব পাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad