আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত ‘কোল্ড স্টোরেজে’ যায়নি: প্রসিকিউশন

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত ‘কোল্ড স্টোরেজে’ যায়নি: প্রসিকিউশন
Advertisement
Advertisement

রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে চলমান তদন্ত ‘কোল্ড স্টোরেজে’ চলে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

তিনি বলেছেন, দলটির বিরুদ্ধে তদন্তে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারা দেশ থেকে মামলার প্রত্যক্ষ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তা পর্যালোচনা করছেন।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সংঘটিত অপরাধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে সময় লাগবে।

গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে দলটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে আওয়ামী লীগেরই প্রণীত আইনের বিধান অনুযায়ী দলটি নিষিদ্ধ এবং এর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

এর আগে গত বছরের ৭ অক্টোবর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। এ অভিযোগ তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

তাজুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামের ওই বক্তব্যের পরও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দল হিসেবে চলমান তদন্ত ‘কোল্ড স্টোরেজে’ চলে গেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা সারা দেশ থেকে মামলার প্রত্যক্ষ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছেন।

আরও পড়ুন

তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তামিম বলেন, একটি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করা বিশাল ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা এবং দলটির কার্যক্রম থাকা বিভিন্ন শাখা-উপশাখা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।

তামিম বলেন, দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিচারপ্রক্রিয়া হয়নি। ফলে এটি একটি বিরল ঘটনা। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কাজ করছেন এবং প্রসিকিউশনের সাহায্য ও পরামর্শে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।

কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তামিম। তিনি বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে অপরাধের কার্যক্রম সংঘটিত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা কঠিন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওইদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

এর তিনদিন পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হতাহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অভ্যুত্থান দমনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমমনাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad