রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। হামলার ঘটনায় নিজেদের দায় আড়াল করতেই গুরুত্বপূর্ণ আলামত মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।
তাদের অভিযোগ, হামলার ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ওই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে ফুটেজ মুছে ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংস্কার কাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেজন্য কোনো ফুটেজ নাই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আবদুল আলীম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।’
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে মারাত্মক আহত চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী সরাসরি এ হামলায় অংশ নেন।
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


