প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বরিশালে এক গৃহবধূ বিষপান করেছেন। সোমবার তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূর নাম ঝুমুর খানম সেতু (২৭)। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে তিনি বিষপান করেন। মুমর্ষু অবস্থায় প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে, পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন।
ঝুমুরের বাবা করিম খান জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের চার বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
তার ভাষ্য, বিয়ের পর থেকে জামাতা, তার মা, বোন ও বোনজামাতা কারণে-অকারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি থেকে মেয়েসহ ঝুমুরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
করিম খান আরও জানিয়েছেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রী খাওয়াতে না পারা এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে শাহারিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মানসিক নির্যাতন করে আসছেন।
তিনি জানান, ঝুমুরের স্বামী কাজের সুবাদে কুয়েতে গমন করেন। এরপর তার মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন, রিয়া ও নাজমিনের জামাতা সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় ঝুমুরের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন শাহারিয়া।
ঘটনার দিন রাতে শাহারিয়া ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে করিম জানিয়েছেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মরে যাওয়ার কথা বলেন। স্বামীর এই মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে পরিবারের সবার অজান্তে ঝুমুর বিষপান করেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।


