কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামকে শোকজ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে তাকে শোকজ করা হয়। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউএনও বলেন, ‘অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা দিতে টেকনাফ থেকে ওষুধপত্রসহ একটি মেডিক্যাল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা শঙ্কামুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে।’
প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ৪ অক্টোবর ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে একটি আবাসিক হোটেলে প্রায় ২১০ শিশুর খতনা করানো হয়। দুই দিন পর অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ দেখা দেয়।
অসুস্থ শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, খতনার সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সতর্কতা যথাযথভাবে মানা হয়নি। বিনামূল্যের কর্মসূচি হলেও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘খতনা করানোর সময় কোনো গাফিলতি ছিল না। সামান্য একটি বিষয়কে বড় করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জড়ো হওয়ায় নির্ধারিত ১২০ জনের বাইরে আরও শিশুদের খতনা করানো হয়। পরে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমিও জেনেছি।’
বুধবার সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল টিম সেন্টমার্টিনে যায়। তারা অসুস্থ শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেয়। বর্তমানে সেন্টমার্টিন ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইউএনও বলেন, ‘মেডিক্যাল টিমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুদের অসুস্থতার কারণ ও খতনা কার্যক্রমে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


