কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
বুধবার সন্ধ্যায় কুমারখালী পৌরসভার হলবাজার, আমতলা, ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি পথচারীদের কামড় দেয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ইতোমধ্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। সকালে এসে তাদের টিকা নেওয়ার কথা রয়েছে।
আহত রোকন বলেন, ‘হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। পেছন থেকে একটি পাগলা কুকুর হাঁটুতে কামড় দিয়ে দৌড়ে চলে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ বলেন, ‘সন্ধ্যায় হাসপাতালে এসে দেখি বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুরের কামড়ে আহতরা আসছেন। দ্রুত কুকুরটি শনাক্ত করা না গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুর্পনা লতিফ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অন্তত ৪৫ জনকে কুকুরের কামড়ে আহত হিসেবে শনাক্ত করেছি। এর মধ্যে ২৪ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়ি চলে গেছেন। সকালে এসে ভ্যাকসিন নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি কুকুরই বারবার মানুষকে কামড়াচ্ছে। সেটি এখনো এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে শহরে কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুদের দেখলে কিছু কুকুর আরও আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘খবর শুনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসার জন্য বলা হয়েছে। কুকুরটি আটক করতে প্রশাসন কাজ করছে।’
আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি কুকুরটি আটক করতে প্রশাসন কাজ করছে।


