কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন/ নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কেএনএফের প্রধান নাথান বম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সংগঠনটির প্রধান নাথানা লনচেও ওরফে নাথান বমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহর সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অন্য আসামিরা হলেন– মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮) ও মো. মতিউর রহমান (৪৩)।

সিআইডি বলছে, কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্মের কাপড় তৈরি ও সেলাইয়ের জন্য মোট এক কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত বুধবার অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করা হয়।

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি গোডাউন ও একটি গার্মেন্টস কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন

এর মধ্যে একটি গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং আরেকটি কারখানা থেকে নয় হাজার ১০০ সেট ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। প্রতিটি সেটে একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট ছিল। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়।

পরে কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে অর্থের উৎস ও প্রবাহের তথ্য খোঁজা হয়।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা প্রথমে নিয়াজ হায়দারের সঙ্গে এবং পরে তার মাধ্যমে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেএনএফের ইউনিফর্মের ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টের কাপড় তৈরির ব্যবস্থা করেন।

সিআইডি জানায়, মংহলাসিন মারমা নিজেকে এমআই এন্টারপ্রাইজের সহকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি পারচেজ অর্ডার দেন। এসব কাজের বিপরীতে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে মোট ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের শার্ট ও প্যান্ট সেলাইয়ের জন্য মংহলাসিন মারমার নির্দেশনায় নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজম তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ কাজের জন্য প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মোট ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংক হিসাব, চেক ও নগদ অর্থের মাধ্যমে মোট এক কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা কাপড় তৈরির জন্য এবং ৭২ লাখ টাকা ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য দেওয়া হয়।

সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্র ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্য আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে সংগঠনটির জন্য বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়ন করেছেন—এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad