রাসায়নিক সারের উচ্চমূল্য আর সরবরাহ সংকটে চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা এখন জৈব সারের দিকে ঝুঁকছেন। তারা ব্যবহার করছেন মদ তৈরির সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘কেরু অ্যান্ড কোম্পানি’র জৈব সার। কেরুর তৈরি এই ‘সোনার দানা’ জৈব সারের ৫০ কেজির এক বস্তা মিলগেটে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০০ টাকায়।
কৃষকরা বলছেন, রাসায়নিক সারের সাথে এই সার মিশিয়ে ব্যবহার করায় ফসলের ফলন ভালো হচ্ছে, আবার চাষের খরচও অনেক কমে আসছে।
চলতি মৌসুমে চাহিদামতো রাসায়নিক সার পেতে কৃষকদের বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো জায়গায় সার পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। তাই মাটির উর্বরতা ঠিক রাখতে কৃষকদের রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানি দেশের একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন অ্যালকোহল বা মদ তৈরির কারখানা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, আখ মাড়াইয়ের পর যে বর্জ্য পাওয়া যায়, তা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করেই কেরু তৈরি করা হয় এই ‘সোনার দানা’।
কেরু কর্তৃপক্ষ জানায়, এই সার মাটির রস ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটিতে উপকারী পোকামাকড় বা অণুজীবের কাজ সচল রাখে। মিলগেটে এই সার প্রতি কেজি ২৩ টাকা এবং ৫০ কেজির বস্তা ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, বর্তমানে তাদের কারখানায় বছরে আড়াই হাজার টন জৈব সার তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, চলতি বছর উৎপাদন ক্ষমতা আরও প্রায় চার হাজার টন বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর নতুন করে আরও পাঁচ হাজার টন উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।
আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রিপন বলেন, এক বস্তা রাসায়নিক সার কিনতে যেখানে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা লেগে যায়, সেখানে কেরুর জৈব সারের বস্তা মিলছে মাত্র ৯০০ টাকায়।
তিনি আরও বলেন, ‘ভালো ফলন পেতে এক বিঘায় মাত্র দুই বস্তাই যথেষ্ট।’
সাইদুর রহমান নামে অন্য এক কৃষক জানান, রাসায়নিক সারের সাথে এই জৈব সার মিলিয়ে ব্যবহার করায় তার অনেক টাকা বেঁচে গেছে। তার জমিতে তরিতরকারি ও অন্যান্য ফসলের ফলনও হয়েছে ভাল।
কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরুর তৈরি এই জৈব সার পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। কম দামে কৃষকদের হাতে মানসম্মত সার পৌঁছে দিতেই তারা উৎপাদন বাড়াচ্ছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এই জৈব সার রাসায়নিক সারের ওপর থেকে চাপ কমাবে। সেই সাথে মাটির শক্তি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
কৃষকদের মতে, এই সারের উৎপাদন ও সরবরাহ যদি আরও বাড়ানো যায়, তবে সারের কষ্ট দূর হবে, চাষের খরচ কমবে এবং মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, মাটির উর্বরতা ধরে রাখতেই তারা কৃষকদের রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এতে রাসায়নিক সারের ওপর চাপ কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে মাটির মানও চমৎকার থাকবে।


