দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ভালো ফলন ও বাজারের আশানুরূপ দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবজি পরিচর্যায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আগাম জাতের ফুলকপির ব্যাপক আবাদ লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো–নয় নম্বর সাতৌর ইউনিয়নের প্রাণনগর, দোলুয়া ও ২৫ মাইল এলাকা, আট নম্বর ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবুকী ও বটতলী গ্রাম এবং নিজপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্লকের ফসলি জমি।

বর্তমানে কৃষকেরা তাদের ক্ষেতে নিয়মিত সেচ দেওয়া, সুষম সার প্রয়োগ এবং আগাছা পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠে চাষ হওয়া প্রধান জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে–রত্না বা রত্নাশা ৪৫ দিনী জাত, হোয়াইট মার্বেল এবং নিন্জা।
দোলুয়া এলাকার কৃষক রহিম উদ্দিন ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক উল্লেখ করে জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যেই এই ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হবে এবং ভালো দাম পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে।
২৫ মাইল এলাকার কৃষক আব্দুল জব্বার চার বিঘা জমিতে বাড়তি টাকা খাটিয়ে পরিশ্রম করে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। সাধারণ সময়ের তুলনায় আগে বাজারে সবজি তুলতে পারলে অধিক লাভ পাওয়া যায় এই উদ্দেশ্যে স্থানীয় কৃষকেরা আগাম চাষে ঝুঁকেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জে ফুলকপি চাষের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৫৯৩ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও, এর মধ্যেই ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এই আবাদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯২ হেক্টর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার ও সেচ প্রয়োগ এবং বালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে মাঠের সার্বিক অবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ফলন ভালো হলে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আগাম সবজি চাষের পরিধি আরও বাড়বে।


