বাদ পড়া শিশুদের টিকা দিতে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু

বাদ পড়া শিশুদের টিকা দিতে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু
হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

মূল হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে বাদ পড়া ও নতুন জন্ম নেওয়া ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে দেশব্যাপী হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে সরকার। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য নেওয়া এ কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার মহাখালীতে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টিকা পেয়েছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান বিবেচনায় নিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি জানান, আগের ক্যাম্পেইন বন্ধ হওয়ার পরের দিন থেকে ঈদুল আজহার পরের দিন পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও দেশে হাম পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় নতুন করে ক্যাচআপ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। আগের মজুতের সঙ্গে নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

তিনি জানান, এরই মধ্যে ৪৩ লাখ ডোজ টিকা বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির পরও প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে। পরবর্তী মপআপ কর্মসূচির জন্যও টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শনিবার থেকে দেশের প্রত্যেক ইউনিয়নে ক্যাম্প এবং প্রত্যেক উপজেলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিভিল সার্জন, ইউএনও ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে আগের চেয়েও জোরদারভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বন্ধের দিনেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৫ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনার পর ঢাকা ও আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত শিশুদের অপুষ্টির বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি। এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি ১৫০ টাকা খরচে একটি বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান তিনি। স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে না পারা শিশুদের এ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে এবং এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। আক্রান্ত শিশুর কাছাকাছি থাকা, একই বিছানায় একাধিক শিশুর থাকা কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাতায়াতের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

টিকা সংগ্রহের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে এবং ‘চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad