কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে।
মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।
ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাদের ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ায় অন্য কৃষক তার প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় কৃষকদের নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তারা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন। শুধু ডিলারদের তাদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।
পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে। কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সারের কৃত্রিম সংকট ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এ সেবা চালু করা হয়েছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত রয়েছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না; কোন এলাকায় কতজন কৃষক, তাদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ এবং কোন মৌসুমে কী ফসল চাষ হচ্ছে—এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোনো ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। একই সঙ্গে কৃষকদের তালিকা ও তাদের সারের চাহিদার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া গেলে সার বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে।
‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। বর্তমানে পাইলট ভিত্তিতে চালু হওয়া এ ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


