কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুটি জি-৩ রাইফেল, দেশীয় তৈরি ২টি বন্দুক, গুলি, বিস্ফোরকদ্রব্য, টেজার, ওয়াকিটকি ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার এলাকায় এ অভিযান চালায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. উসমান বেলাল, মো. মুসলিম ও মো. আনসার আলী। তাদের মধ্যে উসমান বেলাল ও আনসার আলী কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং মো. মুসলিম ২৬ নম্বর মোচনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
বিজিবি জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের কাছে খবর আসে, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার হয়ে ভারী অস্ত্রের একটি চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সকাল ১০টার দিকে লেদা বাজার এলাকায় বিজিবির একটি আভিযানিক দল অবস্থান নেয়।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনজন ব্যক্তিকে একটি ইজিবাইকে সন্দেহজনকভাবে লেদা বাজার অতিক্রম করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা থামার সংকেত দেন। পরে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ইজিবাইকে থাকা বস্তার ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এরপর ইজিবাইকসহ তিনজনকে লেদা বিওপিতে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় আলুর বস্তার ভেতরে লুকানো অবস্থায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি জি-৩ রাইফেল, একটি বড় দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি ছোট দেশীয় একনলা বন্দুক, ৪২ রাউন্ড গুলি, তিনটি টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন, চার কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, একটি ইজিবাইক, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন মোবাইল ফোন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য চোরাচালানসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রতিহত এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


