কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধা কারাগারে

কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধা কারাগারে
নূরজাহান বেগম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় নূরজাহান বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নূরজাহান বেগমকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ জানায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর করা মামলায় নূরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১৩ ধারায় ওই মামলা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নূরজাহান নলকোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার স্বামীর নাম মো. সেলিম আহমেদ। পুলিশের দাবি, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং মামলায় বর্ণিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে-এমন আশঙ্কায় তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

তবে নূরজাহানের পরিবারের অভিযোগ, সামাজিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষকদলের ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পরিবারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

নূরজাহান বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, আদালতে মামলা করার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা তার মাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

সেলিনা জানান, রোববার সকালে তার মা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ইবি থানা ও পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের একটি যৌথ দল বাড়িতে গিয়ে জানায়, ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন। পরে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

নুরজাহানের ছেলে রুহুল আমিনও একই কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সকালে পুলিশ এসে বলে, গুদাম পোড়ানোর মামলার বাদী হওয়ায় ওসি সাহেব তার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর মাকে নিয়ে যায়। আমাদের বাড়ি ও গুদামে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি বর্তমানে পলাতক। আমার বৃদ্ধ মাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারি, তাকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘পার্টি অফিস ভাঙচুরের জন্য যে সরঞ্জাম দরকার ছিল সেগুলো সাপ্লাই দিয়েছেন তিনি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড আপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় সন্দেহজনক হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad