রাজধানীর বাড্ডায় আলাদা ঘটনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে দুইজনসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে এসব ঘটনাগুলো ঘটে। আহতরা হলেন, গুলিবিদ্ধ আলআমিন (২৫) ও সাইফুল ইসলাম (২৩)। এছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন স্কুল ছাত্র মো. আব্দুল্লাহ (১৬)।
আহত আলআমিন থাকেন বাড্ডা আলাতুন্নেছা স্কুলের পিছনে। তার বাবার নাম বাবুল সেলিম। আলআমিন একজন প্রবাসী।
তার বন্ধু মো. রাসেল জানান, গত রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ বাড্ডা আলাতুন্নেছা স্কুলের পিছনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন আলআমিন। তখন সেখানে দুই পক্ষের গোলাগুলি হচ্ছিল। সেই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে যান আলআমিন। তখন তার ডান পায়ের হাটুর নিচে এসে গুলি লাগে। খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয় আব্দুল্লাহ (১৬) নামে এক কিশোর। স্থানীয় একটি স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সে। তার বাবার নাম আবুল হোসেন। থাকে মধ্য বাড্ডা ১১ নাম্বার স্মরণীতে।
তার মামা কাউসার তারেক জানান, আব্দুল্লাহ ও তার দুই বন্ধু মিলে রাতে বাইরে আড্ডা দিচ্ছিল। তখন সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গেলে আব্দুল্লাহকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। সে কোনো পক্ষের হয়ে সেখানে যায়নি।
অপরদিকে, মেরুল বাড্ডা বাজার গলিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন সাইফুল। তিনি রেফ্রিজারেটর মেকানিক। তার বাবার নাম আবুল কালাম। বাড়ি জামালপুর মেলান্দহ উপজেলায়। বর্তমানে থাকেন মধ্য বাড্ডা মোল্লা বাড়ি এলাকায়।
তার বাবা বাস চালক আবুল কালাম জানান, গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন সাইফুল। বাসার কিছুটা দূরে হেলমেট পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথ অবরোধ করে। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে তখন তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এমন সময় পিছন থেকে গুলি করে তারা। এতে তার ডান পায়ে দুটি গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় একটি দোকানের সামনে গিয়ে তিনি পড়ে গেলে সেই দোকানদারের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রতা নেই। তারা কেন সাইফুলকে গুলি করল সেটি কারও জানা নেই।’
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাতে পৃথক ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধসহ ৩ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। তারা সবাই চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে গেছে। ঘটনাগুলো বাড্ডা থানা পুলিশ তদন্ত করছে।


