কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৭৯ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় এবং তার সরাসরি অংশগ্রহণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও ডিবি পুলিশ এ অভিযানে অংশ নেয়। বখাটে কিশোরদের উৎপাত রয়েছে এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়।
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও পুলিশ কঠোরভাবে নজরদারি করছে।
এর আগে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। ওই অভিযানও জেলার ১৮টি থানায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পরিচালিত হয়। তার আগেও কয়েক ধাপে আরও অনেক কিশোরকে আটক করে পুলিশ।
এ ছাড়া সম্প্রতি কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার ময়নামতি এলাকার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের পাহাড়ি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


