কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। তারা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান এবং গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এস এম মেহেদী হাসানকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট এবং রহমত উল্লাহ চৌধুরীকে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এস এম মেহেদী হাসান বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে মৌখিক বা লিখিতভাবে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত হন তিনি। পরে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ই-মেইলে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি যোগ দেননি।
এ ঘটনায় গত বছরের ১৯ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। অতিরিক্ত সময়ও চাননি।
পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ৪ জুন দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি।
তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হলে গত ২৪ আগস্ট কমিশন বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্য প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান রহমত উল্লাহ চৌধুরী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নাম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। চিকিৎসক তাকে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই মাস বিশ্রামের পরামর্শ দেন।
বিশ্রাম শেষে ১১ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার অফিস অর্ডারলি, দেহরক্ষী ও গাড়িচালকও তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
পরে তার স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি। এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
চলতি বছরের ১২ মার্চ দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি।
এরপর তাকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৪ আগস্ট পিএসসিও বরখাস্তের পক্ষে পরামর্শ দেয়। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পলায়ন এবং রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।


