গুপ্তচর সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক রবিউল আরও ৭ দিনের রিমান্ডে

গুপ্তচর সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক রবিউল আরও ৭ দিনের রিমান্ডে
Advertisement
Advertisement

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ, বাংলাদেশে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ না জানানো এবং সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে আরও ৭ দিন রিমান্ডে রাখার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের গরমিলের অভিযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। এর আগে, দুই দফায় মোট ৮ দিনের রিমান্ডে ছিলেন রবিউল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন।

পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার সামনে থেকে রবিউলকে আটক করা হয়। এ সময় তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং পাসপোর্ট দেখান।

আরও পড়ুন

পুলিশের অভিযোগ, রবিউলের পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের গরমিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাসপোর্টে তার জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ রয়েছে। তিনি এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করলেও তার সফরের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কখনো পর্যটক, কখনো ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের অভিযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে রবিউল গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা এবং তাদের এজেন্টদের সহায়তা করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে রবিউলের বিরুদ্ধে দ্য অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad