চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে সৈয়দ শাহ সড়কে এ সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন। তাদের বড় একটি অংশ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
ঘটনার পর জসিমসহ দুই পক্ষের ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুরাদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাকলিয়ার ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মুরাদ ও জসিমের বিরোধ দীর্ঘদিনের। একসময় তাঁরা একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। পুলিশ বলছে, জসিম একসময় মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক নিয়ে বিক্রি করতেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর জসিম মুরাদের কাছ থেকে মাদক নেওয়া বন্ধ করে অন্য উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেন। একই সঙ্গে নিজের লোকজন নিয়ে আলাদা একটি বলয় তৈরি করেন।
পরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জায়গা দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এ বিরোধের জেরে এর আগেও এলাকায় মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে।
সৈয়দ শাহ সড়কের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে দুই পক্ষের লোকজনকে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। এ সময় গুলির শব্দও শোনা যায়। আতঙ্কে লোকজন রাস্তা থেকে সরে যান এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, মুরাদ ও জসিম দুজনেরই কিশোর গ্যাং রয়েছে। মাদক ব্যবসা, জায়গা দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুরাদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মালামাল লুটের অভিযোগে আটটি মামলা রয়েছে। জসিমের বিরুদ্ধে মাদকসহ ১২টি মামলা রয়েছে।
মুরাদ নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও রয়েছে। তবে নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, মুরাদ তার অনুসারী নন। কারও অপরাধের দায় দল নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মুরাদের দাবি, জসিমের লোকজন বাকলিয়ার ১৫ থেকে ২০টি স্পটে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রি করছেন। এসব বন্ধের জন্য তার লোকজন সেখানে গেলে জসিমের লোকজন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তবে জসিমের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার বিরুদ্ধে করা মাদক মামলাগুলো ষড়যন্ত্র করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যুবদলের কোনো পদে না থাকলেও মিছিল-সমাবেশে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন মুরাদ।
অন্যদিকে জসিম নিজেকে বাকলিয়া থানা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে ইসমাইল হোসেন বলেন, জসিম তার অনুসারী নন এবং তাঁর সঙ্গে জসিমের কোনো সম্পর্ক নেই।
নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, কোনো অপরাধীর জায়গা যুবদলে নেই। এ বিষয়ে দলের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। কেউ অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাকলিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, মুরাদ ও জসিম একসময় একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। পরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এলাকায় আধিপত্য, জায়গা দখল ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ জসিমসহ দুই পক্ষের ১৫ অনুসারীকে গ্রেপ্তার করেছে। মুরাদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।


