সুন্দরবনে ডাকাতদের হাতে গত চার দিন ধরে বন্দী রয়েছেন ২১ জন জেলে। অপহৃত জেলেরা কোথায় আছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অপহৃতদের পরিবার ও ট্রলার মালিকেরা। পাশাপাশি সাধারণ জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেদের অপহরণ করা হয়। বনদস্যু মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী এই অপহরণের ঘটনা ঘটায়। এ সময় তারা জেলেদের একটি ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ নানা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতদের ভয়ে কোনো জেলে বা ট্রলার মালিক প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ট্রলার মালিক জানান, জেলেদের ছাড়াতে ডাকাতদের সঙ্গে তাদের গোপনে যোগাযোগ হচ্ছে। টাকা দিলেই জেলেদের মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ডাকাত দল।
এ ঘটনার পর সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া সাধারণ জেলেরাও ভয়ে আছেন। অনেকে দস্যু আতঙ্কে বনেই যেতে চাচ্ছেন না। তারা দ্রুত সুন্দরবনকে ডাকাতমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। জলপথে কোস্ট গার্ডের একাধিক টিম তল্লাশি চালাচ্ছে। আর গহীন বনে ডাকাত ও জেলেদের অবস্থান খুঁজে বের করতে আকাশে উড়ানো হচ্ছে আধুনিক ড্রোন।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। সুন্দরবনে থাকা সাধারণ জেলেদের রাতে দলবেঁধে বন কার্যালয়ের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব বন ফাঁড়ির টহল বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন জানান, ‘অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারে ড্রোনের পাশাপাশি নদীতে তল্লাশি অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনের সব দস্যু দলকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তা না হলে ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


