বগুড়া মহানগরের ঝোপগাড়ী এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে রাকিবুল হাসান বকুল ওরফে ল্যাংড়া বকুল (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার ও শাশুড়ি বুলবুলি ওরফে বুলিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ঝোপগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিহতের শ্বশুরবাড়ির একটি ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিবুল হাসান বকুল বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল গনির ছেলে। প্রায় ১৭ বছর আগে পারভীন আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বকুল ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এসব বিরোধ স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসা করা হলেও পরে আবারও তাদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল বলে জানায় স্থানীয়রা। এদিকে দুই পরিবারের চলমান বিরোধ মীমাংসার জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে সালিশ বসার কথা ছিল। বুধবার দুপুরে বকুল স্ত্রী পারভীনের বাড়ির সামনে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।
সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বকুলের বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা, দুটি মাদক মামলা ও একটি নারী নির্যাতন মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।
নিহতের চাচা সাইফুল ইসলাম জানান, তারা অনেকবার দেখেছেন তার ভাতিজাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
পুলিশের দাবি, নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটকের সময় রমজান আলী নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন নিহতের স্বজনরা। পরে এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে বগুড়ার এসআরবি স্কোয়াড কমান্ডার নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। হত্যার ঘটনায় দুজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


