ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা করার মামলায় তার সৎ বাবা মো. জামাল হোসেনকে (৪৩) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মাসরুর সালেকীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে বলা হয়, জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী শিশু অথবা তার আইনগত অভিভাবক পাবেন। নির্ধারিত সময়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরনে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কামরাঙ্গীরচরের নবীনগর ঢাকা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আসামি জামাল হোসেন তার মায়ের দ্বিতীয় স্বামী হওয়ায় তারা একই বাসায় বসবাস করতেন।
বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের ফলে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর একই বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। বিচার শেষে মঙ্গলবার আদালত জামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে।


