চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর প্রধান গেটে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি ও কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও বন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করে বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্দর চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থে লবিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। বন্দর চেয়ারম্যান এর আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনা নিয়ে আলোচনায় দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়, এটি দেশের জনগণের সম্পদ। বন্দরের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বন্দরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে। ৫ অক্টোবরের অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্রমিক ও জনগণের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
সভায় প্রধান অতিথি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যাবে না। বন্দরের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ জড়িত।
জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, বন্দরের শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই বন্দরের স্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. হারুন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার প্রশ্নে শ্রমিকদের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহসাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দীকী, বন্দর শ্রমিক দল নেতা আব্দুর রুফ লিটন, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব সহ অন্যান্যরা।


