শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে ১৫ দিনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনার আওতায় জেলার ৫৫০টি বাস হাইড্রোলিক হর্নমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসক বলেন, ১৫ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৫৫০টি বাস হাইড্রোলিক হর্নমুক্ত করা হবে। শতভাগ হর্নমুক্ত করা সম্ভব না হলেও শব্দের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা থাকবে। অপ্রয়োজনীয় হর্ন না বাজানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রেখে যানবাহন চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে পরিবহন মালিক ও গণপরিবহন চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিবহন মালিক ও চালকেরা অংশ নেন।
সভায় চালক ও পরিবহন মালিকেরা বলেন, সড়কে যানজট, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে হর্ন দিতে হয়। তবে অপ্রয়োজনীয় ও উচ্চশব্দের হর্নের ব্যবহার কমাতে প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।
পরিবহন চালক লুৎফর রহমান বলেন, হর্ন ছাড়া গাড়ি চালানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমি আজ ৫০ কিলোমিটার হর্ন ছাড়া গাড়ি চালিয়েছি।’
কোনাবাড়ীর প্রাইভেটকার চালক আরিফ বলেন, সড়কে গাড়ি চালাতে হলে ধৈর্য প্রয়োজন। চালকদের ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আরেক চালক মো. রুহুল মিয়া অভিযোগ করেন, ‘অনেক অটোরিকশাচালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে অনেক সময় তাদের হর্ন দিতে হয়।’
গাজীপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার কমানো গেলে শব্দদূষণ অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি যানবাহনে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার আশরাফ উদ্দিন বলেন, গাজীপুরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবহন মালিক, চালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। চালকদের অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার আশরাফ উদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ আব্দুল করিমসহ জেলার পরিবহন মালিক ও গণপরিবহন চালকেরা।


