গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার পরও বিএনপি সেই রায় মানছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার বলেন, ‘আমরা গণভোট আয়োজন করলাম। সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলো। সেই গণভোটের ব্যাপারে তাদের নিমরাজি একটা অবস্থা ছিল। তৎকালে বিএনপির হাই কমান্ড থেকে, অর্থাৎ আজকের প্রধানমন্ত্রী, তিনি এ কথা বলেছিলেন যে, গণভোট কীসের প্রয়োজন? এর থেকে আলুর ন্যায্য মূল্যটা বেশি প্রয়োজন। এর থেকে চাকরি করাটা বেশি প্রয়োজন। গণভোটের পেছনে অযথায় এতগুলো টাকা-পয়সা খরচ করার প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবার সেই গণভোটে অংশও নিলেন, তারা ‘হ্যাঁ’-এর কথা বললেন, পরে সে গণভোটের রায়টা তারা মানলেন না। এখন আবার নতুন করে শুনছি যে, তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, তার ভেতর দিয়ে তারা একটা গণভোটের আবার আয়োজন করবেন।’
তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে বিএনপির পরস্পরবিরোধী ও দ্বিমুখী চরিত্র জনগণের কাছে ধরা পড়ে যাচ্ছে। তারা এমন গণভোট চায় যেখানে দেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হবে না, বরং বিএনপি যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় তা-ই প্রতিফলিত হবে।
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আখতার বলেন, ‘অর্থাৎ একটা ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাগুলো আমরা সমাপ্ত করেছি। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা তাদের ভালো লাগে না। কারণ ঐকমত্য কমিশনে তারা সেখানে ডমিনেট করেছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে নির্ধারকের ভূমিকায় সবসময় তারা থাকতে পারে নাই। সেখানে আরও অনেকগুলো দল ছিল।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কিন্তু এখন তারা নিজেদের মতো করে আরেকটা ঐকমত্য কমিশন করতেছে, যেখানে তারাই মডারেটর, তারাই সেখানে নির্ধারক, তারাই সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, প্রস্তাবক এবং সমস্ত কিছু তাদের হাত ধরেই হবে। এবং যাতে করে আল্টিমেটলি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কোনো সংস্কার সাধিত হবে না।’
এনসিপি সংসদের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে অংশ নেবে না জানিয়ে আখতার বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি স্পষ্ট করেই বলছি যে, সেই সংবিধান সংশোধন কমিটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি অংশগ্রহণ করবে না এবং জনগণের কোনো রায় এই কমিটির সঙ্গে নাই।’ গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সুরাহা করতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানান তিনি।


