পঞ্চগড়ে স্বামীর মৃত্যুশোকে রেললাইনে স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’

পঞ্চগড়ে স্বামীর মৃত্যুশোকে রেললাইনে স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রেললাইনে কাটা পড়ে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন। পরে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দম্পতি হলেন হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মন। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার স্ত্রীও নিয়মিত পূজার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাদের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে হরেন্দ্রনাথ নিজ বাড়িতে মারা যান। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত স্বামীর মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিলেন নিত্য বালা।

মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির পাশে রেললাইনে যান নিত্য বালা। এ সময় রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা রেললাইনে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন

নিহতদের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সোমবার রাতে তিনি মারা যান। মা বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। সকালে তাকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আত্মীয়রা রেললাইনে তার মরদেহ দেখতে পান।’

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশের নিজেদের জমিতে তৈরি শ্মশানে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি দুই চিতায় দাহ করা হয়।

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, কাকি কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। কাকার মৃত্যুর পর কাকি খুব শোকাহত ছিলেন। এই ঘটনায় পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছেন।’

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে সৎকার করেছেন। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad