কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাততলা ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার নাম শান্ত মিয়া (১৮)। এ ঘটনায় দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোধূলি সিটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শান্ত মিয়া ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারুয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। আহতরা হলেন- একই এলাকার মৃত আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে সোবেল মিয়া (৩৫) এবং আবুল মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া (২০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোধূলি সিটি এলাকায় আরিফুল ইসলাম সেন্টু নামের এক ব্যক্তির সাততলা ভবন নির্মাণের জন্য গত প্রায় বিশ দিন ধরে পাইলিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে পাইলিংয়ের জন্য প্রায় ৭০ ফুট লম্বা একটি লোহার খাঁচা গর্তে নামানোর কাজ চলছিল। এ সময় ক্রেনের হুক হঠাৎ ছিঁড়ে গিয়ে লম্বা খাঁচাটি পাশের একটি উচ্চ ভোল্টেজের (এসটি লাইন) বৈদ্যুতিক ক্যাবলের ওপর গিয়ে পড়ে।
এতে পুরো খাঁচাটি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে ভবনের মালিকপক্ষ ও অন্য শ্রমিকরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক শান্ত মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আহত সোবেল মিয়া ও মিন্টু মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান মিয়া জানান, সকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তিনি পাইলিংয়ের কাজ দেখতে দাঁড়ান। ক্রেন ও শ্রমিকদের সহযোগিতায় লম্বা লোহার খাঁচাটি গর্তে নামানোর সময় সেটি পাশে থাকা বিদ্যুতের লাইনে জড়িয়ে যায়।
ভবনের মালিক আরিফুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘শ্রমিকরা কাজ করার সময় ক্রেনের হুক ছিঁড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পর্যাপ্ত সতর্কতা মেনেই কাজ চলছিল। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।’
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান বলেন, পাইলিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে শান্ত মিয়া নামের এক শ্রমিক মারা গেছেন। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আহত অপর দুই শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


