ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাথরুম থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত তরুণীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঢাকা মেডিকেলের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানান, তারা কয়েকজন সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের ১১০/১১১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশে রোগীদের বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। তখন একটি বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে আটকানো দেখতে পান। সব বাথরুম পরিষ্কার করার পরও সেই বাথরুমের ভিতর থেকে কেউ বের না হওয়ায় তারা ডাকাডাকি শুরু করেন। তাতেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে লাথি দিয়ে দরজা খুলে দেখেন, ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে ওই তরুণী।
তারা আরও জানান, দরজাটির ভিতরে ছিটকিনি না থাকায় ভিতরে ঢুকে রশি দিয়ে বেধে রাখতে হয়। সেজন্য দরজাটি কিছুটা ফাঁকা থাকে। বাইরে থেকেও যে কেউ হাত ঢুকিয়ে ভিতরে সেই রশিটি আটকাতে পারবে।
সরেজমিন দেখা যায়, বাথরুমে ভেন্টিলেটরের একটি বড় ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখান দিয়েও যে কেউ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারবে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি সন্দেহের বাইরে রাখছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. হাবিবুর রহমান জানান, সকালে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বাথরুমে ওই তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এ সময় বাথরুমের ওপরে লোহার পাইপের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ওই তরুণীকে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। তবে, তার শরীর থেকে প্রচুর রক্ত ঝরে বাথরুমের মেঝেতে জমে ছিল।
তিনি আরও জানান, তখনি শাহবাগ থানায় খবর দিলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসেন। ওই তরুণী হাসপাতালের রোগী, ভিজিটর নাকি বাইরে থেকে এসেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। ঝুলন্ত মরদেহের পায়ের নিচেই একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


