শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর মৃগী নদী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার ভাটারাঘাট এলাকায় নদী থেকে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত সৈয়দ সাদমান জয় (২২) স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুড়িগ্রামের ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়ার ছেলে। জয়ের মা সাহানাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর সদরের মধ্যশেরী বাড়ইপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে জয় এক বন্ধুকে নিয়ে ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান পরিচালনা করে জয়ের বন্ধুকে আটক করে এবং পরবর্তীকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযানের সময় ভয়ে জয় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করে নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, শনিবার তাদের একটি অভিযান পরিচালিত হয় এবং একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়। তবে অভিযানের ভয়ে কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে থাকলে সে বিষয়ে তাদের জানা ছিল না।
অন্যদিকে, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার জানান, পুলিশের কোনো অভিযান ওই এলাকায় ছিল না। তবে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


