চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অপরজন রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীর বাগিচা মুনিরীয়া যুব তবলীগ নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–রাউজানের শাওয়াল খলিফার বাড়ির বাসিন্দা মো. শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০), পূর্ব রাউজানের বাসিন্দা মো. জাফর (৩৮) এবং মো. সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামীদের কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি, দুটি সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, রাউজান থানা পুলিশের একটি টহল দল রাতে স্পেশাল-৮ ডিউটিতে থাকা অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কদলপুরে একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশে সমবেত হয়েছে। খবরটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে রাউজান থানা পুলিশের টহল দল ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সমন্বিতভাবে সেখানে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও মো. জাফর রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু উত্তোলন থেকে পাওয়া অর্থ সংগ্রহ করে রায়হানের কাছে পৌঁছে দিতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া রাউজানে রায়হানের প্রভাব বিস্তার এবং তার নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায়ও তারা সহযোগিতা করতেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, ১৯ বছর বয়সী সাফায়েত হোসেন সিফাত রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার নেতৃত্বে ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং রায়হানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখত বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ বলছে, রায়হানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। একই সঙ্গে রায়হানের অন্যান্য সহযোগী ও অপরাধীচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অবৈধ অস্ত্র-শস্ত্র নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরের শীর্ষ গ্যাং লিডার আরমান অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার


