চলতি অর্থবছরের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
সভায় স্বাস্থ্য, আর্থিক খাত, সমাজকল্যাণ, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও বিমানবন্দর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধন ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগইন্সট টিবি, এইচআইভি/ এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মেয়াদ চতুর্থবার বাড়ানো হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৫১ কোটি টাকার বেশি করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নতুন ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রকল্প-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রতিবন্ধী রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৮ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার টাকা।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
একই মন্ত্রণালয়ের ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার টাকা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’-এ প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৮৯ কোটি ৭৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া অনুমোদন পেয়েছে ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘র্যাব-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের ‘ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া ‘তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ’ এবং ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প ও ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্পটি (২য় সংশোধিত) একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


