রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত দুই তরুণ পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তাররা হলেন–রাজিব হাওলাদার (৩০), সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪), শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)। তাদের মধ্যে রাজিব ও সাগরের পায়ে গুলি লাগে। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার বাকি আসামিরা হলেন– মো. রাসেল, মো. আতিকুল, আবুল কালাম আজাদ, মো. রাসেল পিয়াদা, লিয়ন ও হাবিবুল্লা ওরফে রাসেল।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শ্যামলী হাউজিংয়ের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদাবর থানায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ে অবস্থান করছেন। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
এডিসি জুয়েল রানা বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাত থেকে আটজন দুষ্কৃতকারী তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণের চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের হাতে থাকা শটগান দিয়ে পুলিশ দুটি গুলি ছোড়ে। এতে রাজিব হাওলাদার ও সাগর ওরফে ছোট বিগার নামে দুজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে রাজিব, সাগর, শাকিব ও রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান, তাদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার রাজিব হাওলাদার মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি। সাগর ওরফে ছোট বিগারের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা রয়েছে। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ রাজিব ও সাগরকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


