দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে তারা এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবসকে সামনে রেখে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহায়তায় এ ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।
ওয়েবিনারে উপস্থাপন করা তথ্যে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশই ঘটে হৃদরোগের কারণে। ২০২৪ সালে এ রোগে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার ৫২ শতাংশের জন্যই দায়ী ছিল উচ্চ রক্তচাপ। আর ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮’-এর উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ১২ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। বিশ্বজুড়েও প্রতি বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকালমৃত্যুবরণ করেন, যার প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ।
ওয়েবিনারে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ করা প্রশংসনীয়। তবে এই বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ও চিকিৎসা সরবরাহে ব্যয় করা হয়, তবে তরুণদের হৃদরোগ ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।’
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক ব্যাধিতে। অথচ এ খাতে বরাদ্দ স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা একেবারেই অপ্রতুল। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অবিলম্বে এই বাজেট বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মারুফ হক খান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনাচরণের ওপর জোর দেন।
এছাড়া তরুণদের সচেতন করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো প্রচারণার আহ্বান জানান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামালের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন ও ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কনসালটেন্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। ওয়েবিনারে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি’ ও ‘প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ ও পেশাজীবীরা যুক্ত ছিলেন।


