শ্রমিক নির্যাতন, সড়কে বাস আটকে রাখা ও অবৈধ ইজিবাইক চলাচলের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার রাতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন দিনের জন্য এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে দূরপাল্লাসহ সব রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। এর আগে সোমবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক ও বাসচালকেরা জেলার পাঁচটি আন্তজেলা লোকাল রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখিভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাসশ্রমিকদের বিরোধের জেরে তাদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাস চলাচলে বাধা এবং কয়েকটি বাস আটকে রাখার অভিযোগও করেন তারা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে এ পরিস্থিতি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি আন্তজেলা লোকাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। এ পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আন্তজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের জরুরিসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, মহাসড়কে বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়। ঘটনার নিষ্পত্তি না হলে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে দূরপাল্লার সব বাস চলাচলও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামানের আহ্বানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর সোমবার রাতে পরিবহন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে পূর্বঘোষিত দূরপাল্লার বাস ধর্মঘটও আর কার্যকর হচ্ছে না।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, তাদের তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, মহাসড়কে বাস আটকে রাখার ঘটনা বন্ধ করা এবং মহাসড়কে অবৈধভাবে ইজিবাইক চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের আশঙ্কাও আপাতত কেটে গেছে।
তবে পরিবহন শ্রমিকদের উত্থাপিত তিনটি দাবির বাস্তবায়ন ও চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।


