দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৩ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ হাজার ৭৩০ জনে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দৈনিক ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত নতুন রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ২১৫ জন পুরুষ এবং ৮২১ জন নারী। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে, ২৯৭ জন। এরপর ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৮৫ জন এবং ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী ২৬১ জন রোগী রয়েছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুজন নারী। মৃতদের মধ্যে ৬১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী দুজন এবং শূন্য থেকে ৫, ৬ থেকে ১০, ১১ থেকে ১৫, ২১ থেকে ২৫ এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী একজন করে রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৬৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ২৫৮ জন।
চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে মৃতদের ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বয়সভিত্তিক হিসাবে, এ বছর ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১০ হাজার ৯২৯ জন। ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮০০ জন এবং ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ১০ হাজার ৩১৬ জন।
এ বছর এখন পর্যন্ত ঢাকা শহরের দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৭ হাজার ৯৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৩২ জন।
মাসভিত্তিক তথ্যেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন এবং জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন আক্রান্ত হন। জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ৩৯ হাজার ৮৮৪ জনে। সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৫৩৬ জন আক্রান্তের তথ্য রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৮ সেপ্টেম্বরের সামগ্রিক হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩০ জন। এ সময়ে ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭০ হাজার ২৫৭ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ৫ হাজার ২৪০ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


