চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৩ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ২০৯ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯৪৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৬৪ জন। পরীক্ষার জন্য প্রেরিত ২ হাজার ৫১৫টি নমুনার মধ্যে এ পর্যন্ত ৭৪৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনজন।
চিকিৎসকেরা বলছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৯ হাজার ২০৯ জনের সবাইকে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকে এখনো উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ রয়েছে। বেড সংকটের কারণে অনেক রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীদের মধ্যেও হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনও শিশু পাওয়া যাচ্ছে, যারা অন্য রোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সুস্থ হওয়ার পর আবার হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, হামের পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে। তাদের হাসপাতালে আসা অনেক শিশু টিকা নেয়নি। কারও টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি, আবার কেউ এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুও রয়েছে। তবে হামের রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হামের রোগীদের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে অন্যান্য রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ বেড়েছে, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৪৬ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ টিকা নেওয়ার নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমিত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ২ মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত।
গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত এলাকার এবং ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবারের। আক্রান্ত শিশুদের ৩১ শতাংশ তীব্র বা একিউট পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল।
গবেষণায় টিকা না নেওয়ার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে সচেতনতার অভাব বা টিকার তারিখ ভুলে যাওয়া। এ কারণে টিকা না নেওয়া শিশুর হার ৫২ শতাংশ। এছাড়া ৩০ শতাংশ শিশু অসুস্থ থাকার কারণে, ৮ শতাংশ মায়ের অসুস্থতার কারণে, ৪ শতাংশ টিকার ভয়ে এবং ৪ শতাংশ টিকা কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় টিকা নেয়নি।


