ভারতের উত্তরপ্রদেশে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক খবর দিয়েছে ‘দক্ষিণ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন’। তাদের প্রথম ‘ইলেকশন ওয়াচ’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিদ্বেষে ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে অন্তত চারজন মুসলিম নিহত হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছর ধর্মীয় বিদ্বেষে মুসলিম নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জন, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭। আগামী বছর শুরুর দিকে উত্তর প্রদেশ বিধানসভার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের ২৭টি জেলায় পুলিশের তথাকথিত ‘হাফ-এনকাউন্টারে’ অন্তত ৭০ জন মুসলিম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫২ জনের বিরুদ্ধে গরু পাচার বা চুরির অভিযোগ ছিল। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয় এবং তা অভিযুক্তদের পায়ে লাগে। এ ধরনের ঘটনায় আগস্টে ৩২ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৩৮ জন আহত হন।
গত ৫ আগস্ট শামলিতে পুলিশের গুলিতে এক মুসলিম যুবকের মৃত্যু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট শ্রাবস্তীর একটি ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, পুলিশের গায়ে কোনো আঁচ লাগে না, অথচ কেবল অভিযুক্তদের পায়েই কীভাবে গুলি লাগে?
আটক, হামলা ও পুলিশের ভূমিকা
রিপোর্টে বলা হয়, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ১৫২ জন মুসলিমকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাংস সংক্রান্ত অভিযোগে সাত নারী এবং মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করায় কয়েকজনকে আটক করা হয়। এছাড়া অন্তত ১৬ জন মুসলিম হামলার শিকার হয়েছেন। ১২ বছরের এক কিশোরকে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় মারধর করা হয়। ১৪টি হামলার ঘটনায় কোনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি; উল্টে দুটি ঘটনায় আক্রান্তদের বিরুদ্ধেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।
নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য
রিপোর্টে উল্লেখ করা ২১টি উস্কানিমূলক বক্তব্যের মধ্যে ১০টি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বিরোধী নেতাদের ‘বাবরের অনুসারী’ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসায় পড়লে ‘সন্ত্রাসবাদী মানসিকতা’ তৈরি হয়। এক রাজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মুসলিম ভোটের দরকার নেই।’ তবে এসব বক্তব্যের জন্য কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যান্য ঘটনা
গত সেপ্টেম্বরে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার আগের উস্কানিমূলক বক্তব্যের ২৫টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয় আদালত। সুবিধা পাওয়াদের মধ্যে বিজেপি নেতা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা রয়েছেন। ওই দাঙ্গায় ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম।
এছাড়া মুসলিমদের ৩৪টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙার ৯টি ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসা বোর্ডের ডিগ্রি দেওয়ার ক্ষমতা বাতিল করায় প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, অন্তত ১০টি জেলায় বিরোধী নেতাদের ১২ বার গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলেও রিপোর্টে জানানো হয়।


